মূল কনটেন্টে যান
মেনু খুলুন
লিস্টোলেট

জামাল ভাই

আমি যখন জামাল ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাবো, মনে মনে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমার মত একটা ছোটো মানুষ যে সারা জীবন শুধু স্বপ্নই দেখে গিয়েছে তার কাছে এমন বিশাল এক মানুষের সাথে দেখা হবে কল্পনায় কোনদিনও ছিল না। এজন্য আমার প্রাণের ছোটো ভাই তারেক কে ধন্যবাদ না দিলে অকৃতজ্ঞতার কাতারে পৌঁছে যাবো। য…

লিখেছেন LISTOLET

৪ মিনিটে পড়া যাবে৫-এ ৫.০, ১ টি রেটিং

আমি যখন জামাল ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাবো, মনে মনে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। আমার মত একটা ছোটো মানুষ যে সারা জীবন শুধু স্বপ্নই দেখে গিয়েছে তার কাছে এমন বিশাল এক মানুষের সাথে দেখা হবে কল্পনায় কোনদিনও ছিল না। এজন্য আমার প্রাণের ছোটো ভাই তারেক কে ধন্যবাদ না দিলে অকৃতজ্ঞতার কাতারে পৌঁছে যাবো। যে সমস্ত বাবস্থাগুলিই করে দিয়েছে।কি কারণে জামাল ভাইয়ের সাথে দেখা সেটা পড়ে বলি?


তার আগে তার সাথে দেখা হবার মুহূর্তের আগে তাকে নিয়ে আমার রিসার্চ করা বিভিন্ন উপাদান আমাকে ভাবিয়েছে, কাঁদিয়েছে, মুগ্ধ করেছে। একজন মানুষ কিভাবে তার একটি পা কে রক্ষা করতে গিয়ে হাতের কব্জির মাংস কে বিসর্জন দিয়েছে।বলে রাখা ভাল- জামাল ভাইয়ের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ডেনমার্কে। হাই স্কুলে পড়ার সময় কিশোর গাঙ্গ অ্যাটাকে তার বুকের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়া, গুলি ঢুকে গিয়েছিল অনেকখানি এবং শেখান থেকে ফিরে আসা যেন এক সিনেমার গল্পের মত। ডক্টর হাল ছেড়েই দিয়েছিল। পরে জানিয়েছিল- তার বুকে টিস্যু লাগাতে হবে পায়ের মাংস কেটে নিয়ে। জামাল ভাই দেই নি। সে তার পা কাটতে দেই নি। উত্তরে বলেছিল টিস্যু যদি নিতেই হয় হাতের মাংস থেকে নেন।

জামাল ভাইয়ের সাথে দেখা হবার আরও কিছুদিন আগে থেকেই আমাদের মেসেজ আদান প্রদান হত ।তারপর ফাইনালি দেখা আবাহানি মাঠের গেটে। ভাই আসল বুকে জড়িয়ে নিল। শরীর টা কি হাল্কা। আমার পরিচয় দিতেই বলল- ইউ আর ফ্রম নিউইয়র্ক । গ্রেট। আমি মনে মনে বলছিলাম, নিউইয়র্ক-এর পরিচয়ের থেকেও আমার বড় পরিচয় আমি নর্থ বেঙ্গলের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা অতি সাধারণ মানুষ। যে বাংলাদেশের পরিবর্তনের স্বপ্ন দ্যাখে। নিউইয়র্কের আরোপিত মিথ্যে আলোকিত জ্বলজ্বলে আলো তার কাছে অতি সামান্য।সম্ভবনার জায়গার গল্প অন্নখানে আলোচনা করা যাবে।

 

ভাইয়ের সাথে আমি একটা কফি সপে গিয়ে বসলাম। তার হাতের দিকে তাকালাম। এখনও ক্ষত চিহ্ন রয়ে গিয়েছে। ভাইয়ের সাথে আমাদে প্রোজেক্ট নিয়ে গল্প করার আগে তার ডেনমার্কের বিলাসী জীবন যাপন আর বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয় নিয় গল্প শুরু হল। কেন তিনি বাংলদেশে পড়ে আছেন, কেন এই দেশ নিয়ে ভাবছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। 

 

ভাইয়ের সবাই থাকে ডেনমার্কে। বললাম এতো আয়েশি জীবন ছেড়ে কেন আপনি এখানে। ভাইয়ের উত্তর- ওরা তাদের মত আমি আমার মত।আমিতো এখানেই সবচেয়ে বেশি ভালো আছি। মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। কিছু একটা দিতে পারছি।  দিন শেষে যার যার জীবন সেতো তার কাছেই। আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম আসলেই তো। জীবন যার যার যার কাছে তার তার কাছেই তো।  

 

প্রোডাকশন দিনে ভাইয়ের যে ধৈর্য – তা দেখে আমি অবাক। আমি তাকে বুঝাইছিলাম। আমি এভাবে এভাবে চাই। উনি স্ক্রিপ্ত দেখে প্রত্যেকটা সিনে নিজেকে কিবাবে পরিবর্তন করবে, প্রত্যেকটা জায়গায় নিজেকে কিভাবে তৈরি করবে, কোন ইমসন টা দেবে। না বুজলে প্রশ্ন করছে বারবার। আমি তাকে অভয় দিয়ে যাচ্ছি আর উনি গ্রহুন করছে হৃদয় থেকে। আমি তখন নিজেকে প্রশ্ন করছি মানুষ হিসেবে একজন মানুষ কতটা মহান হলে এতোটা ত্যাগ করতে পারে। আর আমার মত ঠুনকো এক জনের ভাবনা কে যথেষ্ট সন্মান করে তার সরবচ্চ তা দিয়ে তিনি তার কাজ টুকু করে যাচ্ছেন। এখানে একটা কথা বলে রাকাহ ভালো, আমার নিজের কাছে নিজেকেই ছোট মনে হচ্ছিল। তাকে বারবার কষ্ট দেবার জন্য। আমরা পরিশেষ কাজটা শেষ করলাম।

 

প্রোডাকশন- এর সবাই চলে যাবার পড় আমরা আবার কফি সপে বসলাম। ভাবনার আদান প্রদান করলাম। কিভাবে কি হবে পোস্ট প্রোডাকশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন। ভাইয়া সব কথা বলে ফেললো। আর তারপর বিদায় নেবার পালা। কফি সপ থেকে বের হবো, একজন এসে ভাইয়ের সাথে সেলফি তুলতে চাইল। আমার হৃদয়টা ভরে গেল। সেলফি শেষ হলে আমরা কফি সপ থেকে বের হয়ে বিদায় নিলাম। ভাই চলে গেল। আমিও বাড়ী ফিরলাম। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। কেউ কেউ পাশ্চাত্যের বিলাসী জীবন ফেলে কিভাবে দেশের জন্য কাজ করছে, আর আমি সেখান থেকে কত দূরে। অথছ এই কাজটিই আমার করা উচিৎ ছিলে সবার আগে?

কারণ আমার ভাবনায় যে সব সময় থাকে সবার আগে দেশ। জামাল ভাই যদি পারে আমি কেন পারবো না? আমার ভাবনায় যে ভাবনা কাজ করে সেই ভাবনা দিয়েই দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর সাথে কোনও কম্প্রোমাইজ নাই।   

 


এই লেখাকে রেটিং দিন

মন্তব্য

এখনও মন্তব্য নেই