মূল কনটেন্টে যান
মেনু খুলুন
লিস্টোলেট

মহাআশ্চর্য

মহাআশ্চর্য কে পেছনে ফেলে চলে এলাম । স্মৃতি হয়ে রইল সমস্ত কিছু। জীবন তো চলেই যাবে । মুহূর্তের কাছে বন্দি হয়ে থাকবে এই সব অতীত। কিন্তু যাদের কে ঘিরে এই সব আশ্চর্যের দল- তাদের বদৌলতে জীবনের আয়োজন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?যে মানুষটা বড় রকমের যৌতুক নেবার পর বেঁটে হবার অপরাধে ১৫ বছরের মানুষটাকে ছেড়ে…

লিখেছেন sarwar

৪ মিনিটে পড়া যাবে

মহাআশ্চর্য কে পেছনে ফেলে চলে এলাম । স্মৃতি হয়ে রইল সমস্ত কিছু। জীবন তো চলেই যাবে । মুহূর্তের কাছে বন্দি হয়ে থাকবে এই সব অতীত। কিন্তু যাদের কে ঘিরে এই সব আশ্চর্যের দল- তাদের বদৌলতে জীবনের আয়োজন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

যে মানুষটা বড় রকমের যৌতুক নেবার পর বেঁটে হবার অপরাধে ১৫ বছরের মানুষটাকে ছেড়ে দিল তার বাকি যৌবনের কি হবে ? যে মানুষটা ভর রাত্তিরে চোখে জল নিয়ে পচা ভাতে ক্ষুধা মিটিয়ে দেহ কে বিক্রি করার জন্যে প্রতিদিন তৈরি করে নিজেকে , তার মৃত্যু হবে কোথায়? যে মানুষটা বুকের মধ্য বাহান্নটা মেহগনি কাঠের আসবাবপত্র রেখে দিয়েছে, সেখানে ভবিষ্যৎ কিভাবে সাজবে? যে মানুষটা জোর করে অভিনয়ে সংসার করছে, তার বাকি জীবনের অসমাপ্ত অংশীদার এর ভার তো কেউ নেবে না। তার বেঁচে থাকাটাও তো কষ্টের। যে মানুষটার অতিরিক্ত বুকের মাংস কেটে ফেলা হল, সে কি আসলেই আবারও অপেক্ষা করতে পারবে কারও জন্যে। তার নুতন জীবন কি আসলেই পাশাপাশি থাকবে বহুদিন একসাথে। অথবা সেই মানুষটা যে কিনা নতুন করে মনে রাখবার জন্য হটাত কষ্টও পেয়ে গেল তার লেখাপড়া কি কনটিনিউ হবে।নতুন পরিচিত মানুষটার অস্তিত্বের কান্না কি অভিনয় ছিল নাকি ভেতরের। সেই মানুষ যুগলের কি হবে? যারা পরিশ্রমে বদলাতে চাইছে জীবন। তাদের ধৈর্য কি বজায় থাকবে শেষ পর্যন্ত।

যে মানুষটা চমৎকার গান গায় কিংবা সুর করে , সে কি নষ্টের অধিকারে নিয়ে যাবে না নিজেকে। ভয় হয় যদি হারিয়ে যায় কিংবা অকালে প্রাণহানি হয় অনিয়মের মত করে ।অথবা অলস মানুষ টার ভেতরের অজানা সত্তার বিস্ফোরণ কি ঘটবে না। যে মানুষ গুলি কথা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলল, তারা কি আবার ভাঙবে অন্য কারও স্বপ্নের রং। প্রিয় বন্ধু মানুষের অপমান থাকল কপালে আঁকা। আমার মা মানুষটার চোখের জলে কি আবার চুমু দিতে পারব আমি।অথবা বাবা মানুষটার সাথে কি অচিরেই দেখা হবে আবার। ছোট ভাই মানুষটার অভিমান কি থাকবে অনেকদিন । সেটা কি পূরণ করতে পারব বাকি জীবনে। আমার বোন মানুষের হাত পা ঝলসে যাবে নাত হটাৎ করে। দেশ টার জন্যে তো মায়া হয়। কি কঠিন ভাবে অবহেলিত ? কিংবা সাধারণ অপরিচিত বঞ্চিত মানুষ গুলার কি হবে? কি নিসংস তাদের বেঁচে থাকা। আমার প্রিয় বালিশ, বিছানা, চাদর , মশারি , চার দেয়ালের নীল ঘর , বিড়াল অথবা নতুন গাছগুলি, সেই রিকশাওয়ালা- এরাও তো সবাই আশ্চর্যের মতই কিছু।

এই সমস্ত মহা আশ্চর্যের কাছে আমার জীবন আমাকে অবাক করে। আমি নিজের ভেতরের মানুষ কে হারিয়ে ফেলি। আমি মানুষ হিসেবে সমস্ত পরিচিত আর অপিরিচিত মানুষ আর প্রাণীদের কাছে নিজেকে নগণ্য করে বিবেচনা করতে বাধ্য করি। প্রশ্ন করি এত মানুষের মাঝে আমার অবস্থান কোথায়?

আমাদের বসবাসের অযোগ্য এই নগরীতে - যখন কোন কিছুতে মন বসে না। এখন কি হবে আমাদের? শহরের সব থেকে উঁচু গাছ থেকে তো ভূমধ্যসাগরে সূর্য ডোবা দেখা যায় না। তাছাড়া পৃথিবীর সব দেশের আবহাওয়া তো এক রকম না । কোথাও উষ্ণতা তো কোথাও শূন্যতা, কোথাও মৃদু ম্লান তো কোথাও রৌদ্র অথবা বৃষ্টি। মাটি ফেটে ফেটে যাচ্ছে কোথাও কোথাও, ধুধু বালুচর অন্য অংশে। সম্ভবনার জায়গা হতে পারত এমন ১ টি গুহা অর্থাৎ প্রেমিকার বুকের মাংসেও তো সভ্যতার নগ্ন দৃষ্টি। মসজিদ মন্দির এ মানুষের অকল্যাণকর এর জন্যে প্রার্থনার বদৌলতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড। কি হবে আমাদের? শোবার ঘরেও অবিশ্বাস ডিম লাইটের মত ফ্যান ঘোরার মধ্যে ঘোরে।চোরের ভয়। নিশ্বাস নেব প্রাণ ভরে, বাতাসে জ্বলিয়ো বাষ্প। ডুকরে ডুকরে কান্না করবো সেই জায়গাও নাই, অপরিচিত আগুন্তুক যদি দেখে ফেলে।পৃথিবীর কক্ষাংস ভেদ করে - এই জল, স্থল আর আকাশ পথ ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার রাস্তায় যদি সমাধি হতো । আমি বিশ্বাস করি - ফসিলের হাড় গোড় আর পচা গলা শরীরের উপকরণে একটা যোগ্য মহানগরী গড়ে উটতো । মন বসিয়ে গান শুনতাম আমরা...

কি জন্ম থেকেই জ্বলছি। আবার জন্ম আজন্ম পাপ হতে পারে কিংবা পুণ্যও হতে পারে? পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ অযথাই জন্ম নিয়েছে। আবার অনেক মানুষের দরকার এই পৃথিবীর কল্যাণের জন্যে এই মুহূর্তে- তাদের শরীরের ছায়াও পড়েনি পৃথিবীর বুকে। কত সন্তান রাস্তায় ফেলে দেয়া হচ্ছে, সেখান থেকেই কেউ কেউ হচ্ছে আলোকিত অথবা কেউ অন্ধকারাচ্ছন্ন। কে কার খবর রাখে? কত মা - সন্তানের জন্যে মসজিদ মন্দিরে গিয়ে প্রাথনা করছে দিন রাত। কত বাবা চাইছে পুত্রের মৃত্যু হোক সিগ্রই।এই সব কিছুই হয়ে যাচ্ছে জন্মের মধ্যে দিয়ে। আসন্ন মৃত্যুটাও সমানভাবে দায়ী এ জন্যে- সবার কাছে । সমস্ত জ্বালা পোড়া এই জন্মের মধ্যেই। আমাদের জটিল সমীকরণে সারাটা জীবন কাটে কর্মকাণ্ডজ্ঞান বিহীন। সবার অবশ্য না, অধিকাংশের। তবে অধিকাংশের ভাল কর্মেই গড়ে উটুক একটা নিরাপদ জনপদ। মহাআশ্চর্য এর মত?

এই লেখাকে রেটিং দিন

মন্তব্য

এখনও মন্তব্য নেই