Skip to main content
Open menu
Listolet

বিপ্লবী চরিত্র

জীবন তলে তলে জ্বলে । জলে ভিজে আসে গতকাল চোখে। ক্রমশই প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষের আচরণে। অথচ ক্ষুধা কিন্তু সবারি । কফি আর কফিনের মধ্যে পার্থক্য মানুষ বের করতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে বহুবার। সেখানে শরীর পুড়ে ছাই না হবার জন্যে ভেজা পচা চা পাতা লাগান হয় লাশের স্থায়িত্ব বাড়াতে। কি অদ্ভুত অতী…

By sarwar

3 min read

জীবন তলে তলে জ্বলে । জলে ভিজে আসে গতকাল চোখে। ক্রমশই প্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষের আচরণে। অথচ ক্ষুধা কিন্তু সবারি । কফি আর কফিনের মধ্যে পার্থক্য মানুষ বের করতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে বহুবার। সেখানে শরীর পুড়ে ছাই না হবার জন্যে ভেজা পচা চা পাতা লাগান হয় লাশের স্থায়িত্ব বাড়াতে। কি অদ্ভুত অতীত আমাদের! কিন্তু কিছুই তো সারাজীবনের জন্যে নয়। বেঁচে থাকা জীবন ও গলছে , মৃত লাশ ও গলছে। সবই গলছে , জ্বলছে তলে তলে। যদি মানুষ পৃথিবীতে না থাকত, অন্যান্য প্রাণীকুলের সদা আচরণের প্রস্তুতে পৃথিবীর স্থায়িত্ব বেড়ে যেত আরও কিছুদিন। পরিবর্তে তার আগেই ধ্বংস হবে এই পৃথিবী। আমরা মানুষ রাই তার প্রধানতম কারণ। নতুন জীবন সঙ্কটে আগামীকাল মরুভূমির পথে। চোখে জলের পরিবর্তে জ্বলিয়ো বাষ্প ।

তাই পুরনো দিনগুলির বিপ্লবী চরিত্র আমাকে ভাবায়। কিভাবে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে চেতনার বিস্ফোরণ। এগুলিও ভাবায়। সৃষ্টি করাটা এতো কঠিন কেন। দৌড়াতে দৌড়াতে , হেঁটে হেঁটে, হামাগুড়ির পথে জীবনের বাঁক। যাত্রা কি শেষ হবে না? অথবা হটাত করেই যদি শেষ হয়ে যায়। আমার সৃষ্টির দায়িত্ব পড়বে কার ঘাড়ে। কেউ তো দায়িত্বকে নিতে চায় না। সবাই তো উপেক্ষাই করে সব সময়। এভাবে কি আমিও নিজেকে উপেক্ষিত করছি অচেনার ভিড়ে। অথছ চরিত্র তো এরকম ছিল না পুরনো দিনগুলিতে। কে যেন বলেছিল, " দেখিস একদিন আমরাও "। এই একদিন টা কোথায়? আছে হয়তো কোথাও লুকিয়ে অথবা অস্তিত্বের সঙ্কটে। ... "আমার শ্যাম্পেনের বোতলে পারফিউম। গিলি। ঘামের গন্ধের ওপর অঝথাই ঘাম ঝরানো অর্থ খরচ করে অর্থহীন কোলন খুঁজি । পারফিউম আর কোলনের পার্থক্য টাই বুজলাম না। পড়ে থাকল দূরের একদিনের কাছে।

অন্যদিকে খুব ছোট বেলার কথা। মাটিতে মাদুর পেতে আকাশে তারাদের ছোটাছুটি দেখতাম। তখন মশাদের উৎপাতে তারাদের খসে যাবার মুহূর্তের আনন্দ কখন কখন ভেস্তে যেত। শত শত প্রশ্নের উত্তর মিলত না। যেমন প্রশ্ন ছিল মশাদের কি আসলেই কোন দরকার আছে। জঙ্গল উদ্ধারের এডভেঞ্চার এ ভিমরুলের কামড়ে চিৎকার করে জ্বর বাধিয়ে ঈশ্বর কে গালি দিতাম। কোন প্রয়োজনে এটা সৃষ্টি হল।

এখন বড় বেলার কথা। আকাশের তারা আর জঙ্গল আবিষ্কার করার উৎসব রাজা রানীর গল্পের মতই বিলুপ্ত। কিন্তু কিট আর পতঙ্গ এর প্রয়োজন যে সমাজের কোন কিছুর উপ্সতিথি কে স্বরণ করিয়ে দেয় সেটা পরিষ্কার।সমাজে কিট পতঙ্গের এর ও প্রয়োজন আছে। মশা, মাছি, ভিমরুল, ইঁদুর,শেয়াল, কুকুর , বেড়াল এরা আর কোন কিট পতঙ্গ না। এরা কিছু মানুষের উপ্সতিথি। যাদের কাছ থেকে দুরে থেকেই সুস্থ জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে উপভোগ করা যায় সময়। মানুষের মধ্যেই মশার শুঁড়ের সিরিঞ্জ, মাছিদের ভনভন, ইঁদুরের কটকট,শেয়ালের চাহনি , কুকুরের ঘেউ ঘেউ, বেড়ালের মিউ মিউ সব কিছু বিদ্যমান। এখানে রক্ত চোষা ,গন্ধ, অসহ্য, ভয়, চিৎকার, বমি সব কিছুই সমান ভাবে আছে।

জানি কেউ অপেক্ষা করে নাই। কিন্তু আমাকে বুড় বেলা পর্যন্ত নিশ্চয় অপেক্ষা করে থাকতে হবে রাজা রানীর গল্প যেন বিলুপ্ত না হয় শেষ পর্যন্ত। মানুষের মাঝেই ঈশ্বর, মানুষের মাঝেই সমস্ত কিট পতঙ্গ। বুড় বেলা পর্যন্ত যেতে যেতে কোথাও না কোথাও ঈশ্বরের সাথে দেখা হবেই হবে। যাকে একদিন গালি দিয়েছিলাম তাকেই আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে হয়। বাকিটা দেখা হলেই জমবে। আর- পুরনো দিনগুলির বিপ্লবী চরিত্র আমাকে ভাবায়"

Rate this piece

Comments

No comments yet