রাষ্ট্রের বার্থতাঃ সাধারণ মানুষ কতটা অসহায়।
এক সপ্নবাজ তরুণের স্বপ্নের সরলরেখায় আঁকা হয়েছিলও দেশাত্মবোধের চিত্র। আকাশ পথে দেশের মানুষকে দেখাবে কিভাবে বিদেশি শক্তির অপঘাত থেকে মুক্তি রাখা যায় অবিচল । ভালোই চলছিল হয়তো সবকিছু। প্লেন আকাশে উড়ছিল, অনেক দিনের স্বপ্ন তার সহযাত্রী। সরলরেখাও যে মাঝে মাঝে বাক নেয়, আমাদের না জনাইয়ে …
By LISTOLET
4 min read5.0 out of 5, from 1 rating
এক সপ্নবাজ তরুণের স্বপ্নের সরলরেখায় আঁকা হয়েছিলও দেশাত্মবোধের চিত্র। আকাশ পথে দেশের মানুষকে দেখাবে কিভাবে বিদেশি শক্তির অপঘাত থেকে মুক্তি রাখা যায় অবিচল । ভালোই চলছিল হয়তো সবকিছু। প্লেন আকাশে উড়ছিল, অনেক দিনের স্বপ্ন তার সহযাত্রী। সরলরেখাও যে মাঝে মাঝে বাক নেয়, আমাদের না জনাইয়ে উল্টা পথে হাটা আরম্ভ করে। সেটাই হল বাস্তবে। হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ল উত্তরা মাইলস্টোনের কাছে। মুহূর্তেই আগুন, ধোঁয়া আর ভয়ের কান্নায় ভরে গেল চারপাশ। শুধু বড়রা নয়, সেই দুর্ঘটনায় শত শত ছোট্ট শিশুও মারা গেছে।এ যেন স্বপ্নের শুরু হবার আগেই থেমে গেছে জীবন।
যেসব শিশুরা বেঁচে আছে, তারা মায়ের ডাক খুঁজে বেড়াচ্ছে, কেউ বাবার হাত ধরতে চেয়েও পারছে না। যেসব ছোট্ট প্রাণগুলো চিরদিনের জন্য চলে গেছে, তাদের জন্য পুরো দেশ কাঁদছে। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, জীবন কত ভঙ্গুর আর অন্যদিকে নিরাপত্তা কত জরুরি? উত্তরার মাইলস্টোন এলাকায় ঘটে যাওয়া প্লেন দুর্ঘটনা যেন আমাদের রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির নগ্ন রূপ তুলে ধরেছে। বিধ্বস্ত প্লেনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষের কান্না, চিৎকার আর সাহায্যের জন্য আকুল মিনতি- সবকিছুই যেন এক গভীর আঘাত হেনেছে দেশের মানুষের হৃদয়ে। এ দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা দুর্ভাগ্যজনিত ঘটনা নয়, বরং আমাদের সমগ্র সিস্টেমের ব্যর্থতা, বিশেষ করে সরকারের তদারকি এবং নীতিনির্ধারণী স্তরের উদাসীনতার নগ্ন প্রমাণ।দুর্ঘটনার পরপরই যে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে আমাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি কতটা অপ্রতুল। সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং নীতিনির্ধারণীদের নিষ্ক্রিয়তা বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন বিমানের টেকনিক্যাল ফিটনেস নিয়ে স্বচ্ছতা নেই? কেন পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমানগুলো আকাশে উড়তে দেওয়া হয়? জনগণ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর কিছু মন্ত্রী ও উপদেষ্টার উদ্ভট এবং অমানবিক মন্তব্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। অথর্ব , মেয়াদ উত্তীর্ণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঘোষণা দিয়েছেন, “আমরা বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনবো!”। কি এক ঠান্ডা মাথায়, অসংবেদনশীল মন্তব্য? যেন দেখিয়ে দিয়েছে- জনগণের প্রাণের দামের তুলনায় ক্ষমতার চেয়ারের মূল্য অনেক বেশি। গায়ের জোরে সবকিছু করে ফেলবে একদিনেই । এটা দেশের এবং মাতৃভূমির প্রতি বিশাল অপমান? আহারে অপমান! কেন এত বছর ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নত করার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি? কেন দুর্ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখতে পারে না? এই বিদেশ নির্ভরতা শুধু আমাদের স্বাস্থ্য খাতের ভাঙা চিত্রই নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার নগ্ন স্বীকারোক্তি। মোটামুটি সব জনগণ প্রশ্ন করছে—এ দেশে মানুষ বাঁচানোর মতো যোগ্য ডাক্তার আর হাসপাতাল নেই, এটা কি ক্ষমতাধারীদের এক ধরণের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়।
দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজুক চিত্র আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। কাছাকাছি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ইমার্জেন্সি সুবিধা নেই, নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার কিংবা বিশেষায়িত বার্ন বা ট্রমা সেন্টার। আহতদের অনেককে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, আর অনেকের জীবনহানি ঘটেছে সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে।উত্তরা এলাকার দুর্ঘটনার পর রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া তীব্র যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেনি। সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহতদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। এ দৃশ্য প্রমাণ করে, রাষ্ট্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং ট্রান্সপোর্ট ইস্যু এখনো এক বিশাল ব্যর্থতার নাম।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু প্রিয়জন হারায়নি, বরং হারিয়েছে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস। তাদের চোখে এখন কেবলই প্রশ্ন? এই দেশের মানুষ কি কেবলই মরার জন্য জন্মেছে? একটি সিস্টেম যেখানে মানুষের জীবন এত সস্তা, সেখানে নিরাপত্তা বা উন্নয়নের বড় বড় বুলি শুধু প্রহসন ছাড়া আর এই দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—গাফিলতিতে আচ্ছন্ন এক রাষ্ট্রীয় কাঠামো, উদাসীন উপদেষ্টা, দুর্বল হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা এবং অচল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের কাছে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায়।
এই যে চারপাশে কান্নার শব্দ। এই যে শোকের ছায়া আজ পুরু দেশ জুড়ে। এই দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছে, কেউ হারিয়েছে তাদের বাবা-মা, কেউ প্রিয় বন্ধুকে, ছাত্র ছাত্রীরা হারিয়েছে প্রিয় শিক্ষক । ছোট ছোট বাচ্চারা ভয়ে কেঁদে উঠছে, তাদের চোখে প্রশ্ন- “কেন এমন হলো?”এটা কেবল একটা গল্প নয়, এটা আমাদের শেখায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিৎ রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। ছোট ছোট হাতগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনা শুধু কয়েকজনের নয়- এটা আমাদের সবার চোখের জল। এই গল্প আমাদের শেখায়, যারা চলে গেছে তাদের কথা মনে রাখতে হবে, আর ভাবতে হবে—কোনভাবেই যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।জীবনটা শুরু না হতেই যেন শেষ না হয়।
এই যে চারপাশে কান্নার শব্দ। এই যে শোকের ছায়া আজ পুরু দেশ জুড়ে। এই দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছে, কেউ হারিয়েছে তাদের বাবা-মা, কেউ প্রিয় বন্ধুকে, ছাত্র ছাত্রীরা হারিয়েছে প্রিয় শিক্ষক । ছোট ছোট বাচ্চারা ভয়ে কেঁদে উঠছে, তাদের চোখে প্রশ্ন- “কেন এমন হলো?”এটা কেবল একটা গল্প নয়, এটা আমাদের শেখায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিৎ রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। ছোট ছোট হাতগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনা শুধু কয়েকজনের নয়- এটা আমাদের সবার চোখের জল। এই গল্প আমাদের শেখায়, যারা চলে গেছে তাদের কথা মনে রাখতে হবে, আর ভাবতে হবে—কোনভাবেই যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।জীবনটা শুরু না হতেই যেন শেষ না হয়।
Rate this piece
Comments
No comments yet




