Skip to main content
Open menu
Listolet

সবকিছু ভেসে যাবে

কাচা বাঁশের খাছায় ঘেরা ঘের, আইলের পর আইল দিয়ে বন্ধ করা শত শত মাইল । তারপর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সেকলে বদ্ধ হাজার হাজার শব্দ । তার ও পর প্রাচীর! আর ওপরে মানে বাতাসে অথবা মেঘে রয়ে গাছে সীমারেখা। ঘোড়া চাল দিবা কোথায় - মানুষ! রাজা তো বন্দি? কথা যদি গাছের মত হত, মাটি ভেদ করে উঠে যেত ওপরে। …

By sarwar

4 min read

কাচা বাঁশের খাছায় ঘেরা ঘের, আইলের পর আইল দিয়ে বন্ধ করা শত শত মাইল । তারপর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সেকলে বদ্ধ হাজার হাজার শব্দ । তার ও পর প্রাচীর! আর ওপরে মানে বাতাসে অথবা মেঘে রয়ে গাছে সীমারেখা। ঘোড়া চাল দিবা কোথায় - মানুষ! রাজা তো বন্দি? কথা যদি গাছের মত হত, মাটি ভেদ করে উঠে যেত ওপরে। কিন্তু এই গোলাকারে তো সব ভাগ হয়ে গাছে। আলাদা আলাদা। কতদূর খোলা ময়দানে দৌড়াবে বোকা মানুষ। চোখ মেললেই দেখবে দেয়ালে বাঁধা জীবন। দেয়াল ভাঙবে? অযথা! দেখবা ,কাচা বাঁশের খাছায় ঘেরা আইলের পর আইল দিয়ে বন্ধ করা শত শত মাইল । তার ও পর যদি কিছু ভুল করে চোখে পড়ে , সেখানে থাকবে কাঁটাতারের বেড়া আর বদ্ধ প্রাচীর! সমস্ত সীমারেখায় বোবার মত নীরব তোমার জীবন।

ভাঙ্গা চামচের অংশটা পড়ে আছে চুলোর ঠিক পাশ দিয়ে , ভাতের মাড় গুলু নেয়েবেয়ে পড়ে যাচ্ছে মাটির পাতিলের শরীরে। ধোঁয়া উড়ে যায় কোথায়? দূর দিগন্তের গ্রহ কিংবা নক্ষত্র- দেখতে ভুলে গিয়েছে চোখের জল। হাজার বছরের খুদায় তবু তৃপ্ত পেটের ভাঁজ, বিজয়ের তাগিদে । শিশুটা কি বুঝেছিল সেই সমস্ত কিছু। বোঝেনি বলেই তো মুখে হাসি লেগেই ছিল তখন পর্যন্ত। এসব কিছু এখন সত্যি বিমূর্ত ছবির মত গল্প। আর গল্পের পেছনের ইতিহাসটা অতি নগ্ন। সত্যের কাছে তাকে নগণ্যই লাগে।

বহুবছর ধরে উভচর প্রাণীর মত জীবন যাপন । অথছ মানুষ তো জলে বাস করে না । জলের জল আর কলের জল দুটোই টলমল। চোখের জলে মিশে যায় নিমিষেই। বৃষ্টির টিপটিপ আর ঝড়ের ঝাপটানির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। সবি একি রকম। প্রাণীকুলের বিদ্রোহ আর সভ্যতার চোখ সমান বিতর্ক করে। অস্থির! দেহের রক্ত চলাচল এখনও বহমান। গরমই মনে হয়। মৃত্যুর মত শীতল স্পর্শ ভুলে থাকে কতদূর? সব ভাষাকেই বোবা মনে হয়। গহিনের শব্দ নিঃশব্দের মত চুপচাপ অথবা চিৎকারের মত কিছু। শেষ বলে সত্যি কিছু নাই। প্রত্যেকটা শুরুই ছোট গল্পের মত বৃহৎ পরিসরে ইতি টানে। অপছন্দের মধ্যেও কখনো কখনো গভীরতা খুঁজে পাওয়া যায়। উভচর প্রাণীদের কোন পছন্দ থাকতে নেই। তারা অতিরিক্ত অংশ হয়ে থাকে। আঁচিলের মত। খসখসে! তারা ব্যবহার হয় অপব্যবহারের মত ,অধিকাংশ সময় রক্তাক্ত।

নিরাপত্তার চাদরে পৃথিবী নাই, অনিশ্চয়তায়! আশ্চর্য রকম ভাবে মানুষ সহ সমস্তপ্রানিকুল একটা অনিরাপদ অঞ্চলের বাসিন্দা। উভচর সহ আকাশপথ। প্রতি নিঃশ্বাসেই বিশ্বাসের প্রত্যেকটা শব্দে হতাশার গান বাজছে করুন সুরে। মিথ্যে শুকনো হাসির ফলাফল অযথা সম্পর্ক গুলি। সত্য বন্দি হয়ে থাকে চিলেকোঠায়। নিরাপদ আশ্রয় যেখানেই মনে করা হয়, সেখানেই অদৃশ্য গণ্ডগোল। চোখের পাতার টিপটিপ অংশের পেছনের গল্প হয়ে থাকে অনুরুদ্ধার, জিহ্বার মিষ্টি স্বাদের উল্টো পথ ধরে তেঁতো বয়ে চলছে হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত। এই মিথস্ক্রিয়ায় অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা। সমস্তপ্রানিকুল সহ সবাই উষ্ণতায় খুঁজি বিপদমুক্ত পরিবেশ। বেঁচে থাকবার চেষ্টা করি স্বাধীনতায়। পরিবর্তে অনিশ্চয়তায় মরি প্রত্যেকটা মুহূর্তে।

অন্যদিকে - আসর জমেছে হাশরের ময়দানে। সমস্ত লেনদেন এর হিসাব হচ্ছে সেখানে। কে রাজাকার, কে গোলাকার, কার থাকবে আকার , কে নিরাকার ;" ই "কার আর " ঈ " কারের তুমুল বিতর্ক। সব দেনা পাওনা আলো অন্ধকারের মত করে উজ্জ্বল আর অনুজ্জ্বলের যুক্তি তর্কে অবসান হচ্ছে তর্জনীর শক্তি। এই জীবন ব্যবস্তার সাদা রঙের পাতায় কাল কালির কাটাকাটিতে ফাটাফাটি চলছে প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির । নিজেরটা হয়ে গেলে , মিলে যায় অঙ্ক। আলোচনা ছোট হয়ে আসে। অমীমাংসিত থাকলে চুলুচুলি চলতেই থাকে অবিরাম- ইয়ারব ঈয়ারব।জমেছে আসর হাশরের ময়দানে। কোনখানে সেই দুর্লভ ময়দান? কতদূর সেই উলট রথ? বেশিদূর না। খুব কাছেই। আশেপাশেই। এখানে, এই পৃথিবীতে। এখানেই এই ময়দান। জমেছে আসর ভরপুর। অবশেষে সব ভেসে যাবে একদিন।জলে না- তেলে ; সুন্দরবন, জঙ্গল, মঙ্গল , অমঙ্গল, প্রধান ও বিরোধী আর মাঝামাঝি থাকা সমস্ত জন । তাই তেলেই ভেসে যাবে সব। ইচ্ছে করেই তৃতীয় কোন হাত দিয়ে হটাত করে দেশলাই এর এককাটী তেই জ্বলে জ্বলিয়ো বাষ্প হয়ে উটবে সব। মূর্খের সাথে শিক্ষিত রাও থাকবে সেখানে। জ্ঞানীর সাথে সমস্ত প্রাণীকুল। সব ভেসে যাবে একদিন, সব। মৃত সব লাশের সাথে জীবন্ত জীবন আর সম্পর্কসমূহ । তেলেই ভাসবে সব আয়োজন মরীচিকার মত। কারন দায়িত্ব কে আমরা বরাবরি অবহেলা করে গিয়েছি সব সময়। পালন করতে হয় বলে কখনই আমাদের মনে হয়নি। তাই সব কিছু ভেসেই যাবে শেষ পর্যন্ত। আইলের পর আইল দিয়ে বন্ধ করা শত শত মাইল ।

Rate this piece

Comments

No comments yet