"গড ব্লেস ইউ মাই ফ্রেন্ড!"
"ফুটপাথে ফুল ফোটে না বলে কি তার ঘ্রাণ নেই?আমি তো বিশ্বজুড়ে খুঁজে বেড়াই আমার জন্মভূমির সুবাস!"গুলির আঘাতে যখন নিউইয়র্কের রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার Didarul Islam (৩৬), তাঁর ইউনিফর্মের নিচে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি রক্তই যেন ফুটে উঠলো বেশি। আমেরিকার পতাকাবাহী বাহিন…
লিখেছেন LISTOLET
৪ মিনিটে পড়া যাবে
"ফুটপাথে ফুল ফোটে না বলে কি তার ঘ্রাণ নেই?আমি তো বিশ্বজুড়ে খুঁজে বেড়াই আমার জন্মভূমির সুবাস!"
গুলির আঘাতে যখন নিউইয়র্কের রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার Didarul Islam (৩৬), তাঁর ইউনিফর্মের নিচে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি রক্তই যেন ফুটে উঠলো বেশি। আমেরিকার পতাকাবাহী বাহিনীতে তিনি ছিলেন ন্যায়ের প্রতীক, আর তাঁর হৃদয়ে ধ্বনিত হতো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সুর।যে হাতটি একদিন নিউইয়র্কের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করত, এক আততায়ীর গুলিতে সেই হাতই আজ নিষ্প্রাণ। ২৮ জুলাই, Manhattan-এ এক বন্দুকধারীর উন্মত্ত হামলায় Didarul Islam (৩৬), এর জীবন নিভে যায়। আততায়ী, লাস ভেগাসের বাসিন্দা Shane Devon Tamura (২৭)।
যে হাতটি একদিন নিউইয়র্কের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করত, এক আততায়ীর গুলিতে সেই হাতই আজ নিষ্প্রাণ। এনওয়াইপিডি ইউনিফর্মের পকেটে না পাওয়া গেলেও , সে ছাড়া কেউ দাখেনি তার বুকের ভেতরে খোঁদাই করা ছিল , বাংলাদেশের পতাকার স্টিকার। যেন মৃত্যুর মুহূর্তেও তিনি বলতে চেয়েছেন: "আমি বাংলাদেশকেও ভুলিনি"। "কেউ তাকে বলেছিল আমেরিকান, কেউ বাংলাদেশি— সে হয়তো নিজেকে বলতেন 'মানুষের পুলিশ'। যেন মৃত্যুই শুধু পারে সেই চেতনাকে সংজ্ঞায়িত করতে!"
বাংলাদেশ ছেড়ে যারা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমান, তাদের রক্তে আজও মিশে আছে এই মাটির গন্ধ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দিল, বাংলাদেশের রক্ত কোনো ইউনিফর্মেই ঢাকা পড়ে না। সততা কোনো জাতীয়তার মাপকাঠিতে বাঁধা পড়ে না। Didarul Islam ছিলেন দুই সন্তানের বাবা, আর তৃতীয় সন্তানের জন্মের অপেক্ষায় থাকা গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে গেলেন চিরবিদায় দিয়ে।
আজ নিউইয়র্কের সেই রাস্তায় পড়ে থাকা রক্তের নিথর দেহ হয়তো আমাদের সবাইকে আহবান জানিয়ে যাচ্ছে: "আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি হয়েও আমি বিশ্বনাগরিক ছিলাম। মৃত্যু যখন এসেছে, সে জিজ্ঞেস করেনি, আমি কোন পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। সে শুধু দেখেছে, আমি মানুষকে রক্ষা করতে গিয়েছিলাম।" ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ একদিকে যেমন ছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আদর্শ অফিসার, অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া সেই ছেলেটি যার গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ওপরে ব্যাক মিররে ঝুলতো বাংলাদেশের মানচিত্র।
পৃথিবীর হয়তো কেউ জানবে না, তার দ্বৈত জীবনে এই জমিনে ছিল দুই মাটির টান। তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে না পাওয়া থাকলেও প্রকৃতির দেয়ালে থাকবে শেষ লেখা :"আজ মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। বলেছে, 'বাবা, তোর জন্য মাছ শুকিয়ে রেখেছি।' NYPD-তে প্রমোশন পেলে ছুটি নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ..." নিউইয়র্কের মেয়র Eric Adams বলেছেন: সে প্রমাণ করেছে যে সততা কোনো সীমানা চেনে না। সে ছিল একজন সত্যিকারের নীল-আমেরিকান এবং গর্বিত অভিবাসী।”
এই একটি মৃত্যু যে প্রশ্ন রেখে গেল আমাদের মাঝে। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন অফিসারের জীবন নেয়নি, এটি আমাদের সামনে এনেছে কিছু কঠিন সত্য- অভিবাসী জীবনের সেই টানাপোড়েন যেখানে জন্মভূমি আর ক্যারিয়ার দুই-ই হৃদয়ে ধ্বনিত হয়। বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বমঞ্চে কীভাবে সম্মান বয়ে আনে। ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান । নিউইয়র্কের সেই রক্তাক্ত পথচিহ্ন আজ দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় বেদনার ছাপ রেখে গেছে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার দের মনে গভীর শোক । সেখান থেকে বার্তা আসে নিস্তব্ধতায় -
"তোমার ইউনিফর্ম আমেরিকান ছিল, কিন্তু রক্তে বাঙালিত্বের যে ধারা বইছিল তা তো কখনো থামেনি।" সেখানে ভবিষ্যতেও কেউ কেউ রেখে যাবে লাল-সবুজের ফুল। এ যেন নীরব প্রতীকী বার্তা: জাতীয়তা কোনো সীমানার খাঁচায় বন্দী নয়, মহানুভবতা কোনো পতাকার মাপকাঠিতে আবদ্ধ থাকে না।—‘ঘর মানে শুধু চার দেয়াল নয়, যে মাটি তোমাকে ডাকে সেও তো ঘর’।
জ্যাকসন হাইটসের 'লিটল বাংলাদেশ'-এ স্বতঃস্ফূর্ত শোক পালন করা হবে নিশ্চয়ই ।কিন্ত কালের গর্ভে যেন হারিয়ে না যায় এই ছবি । ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর কাছে যেন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকে আমাদের এই পুলিস অফিসার। তার বীরত্বের প্রতি সন্মান জানিয়ে স্থান যেন স্থানীয় দোকানগুলোতে যেন পোস্টারে লেখা থাকে : গর্বিত বাংলাদেশি, নিউইয়র্কের বীর"। যেন উদাহরণ হয়ে থাকে একটা সত্যিকারের শহর গড়ে উটতে অনেক ত্যাগ করতে হয়। একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের জন্য থাকে পূর্বের সীমাহীন আত্মসমর্পণ।
দিদারের শেষ যাত্রায় যেন ধ্বনিত হচ্ছিল নিউইয়র্ক সিটির বাতাস; সেখানে ভেসে বেড়াত শব্দ ।
গর্বে উঁচু ছিল আমার বুক,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল শপথের দুই চোখ ।
আমেরিকার ইউনিফর্মে, বাংলাদেশের স্বপ্ন,
দুটি পতাকা মিলেছে এক মহা গৌরবতন্ত্র।
গুলির শব্দ ঢাকতে পারেনি আমার নাম,
সাহসের গল্পে আগামী অমর, অজানার আকাশ ।
শহরের কোলাহলে শোকের ঢেউ “আমি মানুষের জন্য বেঁচেছিলাম”—এই কথাই বেজে ওঠে আকাশে হঠাৎ ঝড়ের হাওয়ার মতন ।
"গড ব্লেস ইউ মাই ফ্রেন্ড !"
এই লেখাকে রেটিং দিন
মন্তব্য
এখনও মন্তব্য নেই




