গরম পানিতে মাছের চাষাবাদ
আমি গরম পানিতে মাছ চাষ করি। মাছ মরেও না, চড়েও না,সাঁতরায়ও না। খালি ফ্যালফ্যাল করে তাকায় থাকে। যে কবরস্থানের মত ঘরে আমার বসবাস। সেখানে দুইটি বিমূর্ত ছবি আছে। একটি সবেমাত্র অবহেলিত ঘুনেধরা সমাজের কালজয়ী কিশোরী, অসংখ্য প্রশ্ন তার নীল চোখে। ফ্যালফ্যাল করে তাকায় থাকে।অন্যদিকে আরেক ছবি সংগ্রামী য…
লিখেছেন LISTOLET
৩ মিনিটে পড়া যাবে
আমি গরম পানিতে মাছ চাষ করি। মাছ মরেও না, চড়েও না,সাঁতরায়ও না। খালি ফ্যালফ্যাল করে তাকায় থাকে। যে কবরস্থানের মত ঘরে আমার বসবাস। সেখানে দুইটি বিমূর্ত ছবি আছে। একটি সবেমাত্র অবহেলিত ঘুনেধরা সমাজের কালজয়ী কিশোরী, অসংখ্য প্রশ্ন তার নীল চোখে। ফ্যালফ্যাল করে তাকায় থাকে।অন্যদিকে আরেক ছবি সংগ্রামী যুবকের। তার সাড়া শরীরে গ্রিজের তৈলাক্ত আবরণে ঢাকা। চামড়া যেন লোহা দিয়ে মোড়ানো। তার চোখ আমি দেখি , বারবার দেখি। সমাজের প্রতি তার বুকের ভেতর জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।খালি ফ্যালফ্যাল থাকে।কিছু না বলেই কত কথা বলে দেয়। যে কবরস্থানের মত ঘরে আমার বসবা, তার চারপাশের দেয়ালে মোড়ানো ফুটন্ত গরম পানি।সেখানে মাছ চাষ হয় । ঘুনেধরা সমাজ,গ্রিজের তৈলাক্ত আবরণ,জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।অন্যদিকে মাছ বেঁচে উটতে চায়, নড়ে চড়ে সাঁতরাতে চায়। টাণ্ডা পানি প্রত্যাশা করে। কোনও কিছুই এগুয় না। সবকিছু আটকায় থাকে - আর আমিও ফ্যালফ্যাল করে তাকায় থাকি ।
দুইশ বছর আগে বলেছিলাম এই সভ্যতা ইনটেনন্সিভ কেয়ার ইউনিটে। যেখানে নিশ্বাস এবং রক্ত সঞ্চালন খুব গভীর ভাবে পরিলক্ষিত করা হয়। এখানে জীবন ভূষিত হয় মরণত্তর সান্ত্বনা পুরস্কারে। বেঁচে থাকায় লবণাক্ত যৌবনের শেষাংশ অঝথাই তাসের ঘর বাঁধে মাইনাস একশ তেতাল্লিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় মরুভূমির ওপর। তারপর সেই বরফ গলে গলে পাথরে পরিণত হয়।আর পরে পাথরের বুকে হয় ধূলিঝড়। পৃথিবীর কোনও অধিকার নেই সেখানে। তার কাছেতো মাইনাস প্লাস বলে কিছু নাই। সে আপন গতিতে ঘুরতেই বাস্ত সর্বদা। সময়ের গ্রাভিটি আমাদের কখনই এক করতে পারেনা।মানুষ হয়ে জন্ম নেয়া দুই পায়ের চলন্ত শক্তি ছুঁতে পারেনা অন্য আরেক মানুষকে।অতিরিক্ত চাপে সবাই আমরা ঘুরতে সাথে কারও দেখা হয়না। আজ থেকে দুইশ বছর পরেও এই রকমই থেকে যাবে সভ্যতা। পুরু এই জীবনটাই চারশো বছরের অপরিবর্তনীয় ক্ষতিপুরুনের সামষ্টিক যোগফল। তবুও শেষে জীবন আনন্দের। নিশ্বাস এবং রক্ত সঞ্চালন পুরু সময়টা ধরে কেউ না কেউ দ্যাখে , গভীর ভাবে দ্যাখে।
এই বেঁচে থাকার সাথে পুনর্জন্মের কি পার্থক্য? হাশরের ময়দানে আটা ময়দা দিয়ে চোখ ঢাকা থাকবে না।খোলা জানালার মত খোলা ফাঁকা থাকবে সন্মুক। ফোলা ফাফা যৌবন কিংবা বার্ধক্যর মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকবে না। সবাই শুধু দৌড়াবে আর দৌড়াবে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে। কে আগে যেতে পারে? নিশ্বাস ফেলবার কোনও জায়গা থাকবে না। বিশ্বাস করবে না বাবা তার বাবাকে, কোনও বাবার কাছেই তার সন্তানের চেহারা থাকবে না পরিচিত। মা চিনবে না কে তার ছেলে মেয়ে? ভাই বোনের হিসেব নিকেশ নিঃশেষ হয়ে যাবে। স্বামী আসামী হলেও কোনও প্রকার লভ্যাংশ নিতে যাবেনা স্ত্রির কাছে। স্ত্রিও বুজবেনা বেঁচে থাকার দিনগুলিতে বাসর ঘর তার কাছে স্ত্রিরের গরমের তাপের ভাপের মত ছিল অজনপ্রিয় কোনও স্থির বিমূর্ত চিত্র । প্রিয় বন্ধুর কাছে চাওয়া পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে চিরতরে। সবাই শুধু দৌড়াবে আর দৌড়াবে। বেঁচে থাকায় ছোট্ট কবরস্থানের মত ঘরের পাশের আরেক ঘরে যে প্রিয় অপ্রিয় মানুষ থাকে , তার মাঝে যে চীনের প্রাচীরের সমান অথবা তার থেকেও বড় দেয়াল সেটা হয়ে যাবে বিস্তীর্ণ সমতল।সবাই শুধু দৌড়াবে আর দৌড়াবে বিচারের আশায়। বিচার কি আসলেই হবে? সঠিক বিচার যদি হয় তাহলে তো ভালোই হবে।আর যদি না হয় - তাহলে এই শূন্যস্থানের মত ঝুলে থাকা শূন্য পৃথিবীতে এসব কি হচ্ছে? এখানে কেন এতো দৌড় প্রতিযোগিতা! এখানে কেন এতোসব অপরিচিত মুখ ? এখানে কেন আমরা কেউ কাউকে চিনিনা অথবা কাররি সান্নিধ্যে আশা করছিনা। হাশরের ময়দানের সাথে অপ্রাপ্তির এই পৃথিবীর পার্থক্যটা আসলে কোথায়? এখানে কি আমাদের চোখ খোলা নাকি বন্ধ।
সবাই চলুক জ্বলুক ! আর আমি গরম পানিতে মাছ চাষ করি। করি। করি তো!
এই লেখাকে রেটিং দিন
মন্তব্য
এখনও মন্তব্য নেই




