মূল কনটেন্টে যান
মেনু খুলুন
লিস্টোলেট

হিরো আলম: প্রলেতারিয়েত সমাজের দেয়ালচিত্র!

হিরো আলম ভাইয়ের বাবা চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে মহা উচ্চতায় রাখুক এই প্রাথনা করি। আজ ভাইয়ের দেয়ালচিত্র নিয়ে কিছু কথা বলি। যা অনেকদিন থেকে আমার বলবার কথা ছিল। সমস্ত অতীতের সেই অদম্য ইঞ্জিন যারা রক্ত-ঘামে লিখেছে সভ্যতার গাথা! পুঁজির দুনিয়ায় যারা শুধু বিক্রি করেছে শ্রম,তা…

লিখেছেন LISTOLET

৬ মিনিটে পড়া যাবে

হিরো আলম ভাইয়ের বাবা চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে মহা উচ্চতায় রাখুক এই প্রাথনা করি। আজ ভাইয়ের দেয়ালচিত্র নিয়ে কিছু কথা বলি। যা অনেকদিন থেকে আমার বলবার কথা ছিল। সমস্ত অতীতের সেই অদম্য ইঞ্জিন যারা রক্ত-ঘামে লিখেছে সভ্যতার গাথা! পুঁজির দুনিয়ায় যারা শুধু বিক্রি করেছে শ্রম,তাদের হাতেই তৈরি হয়েছে ইতিহাসের চাকা।শোষণের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ যাদের 'অদক্ষ' বলে,আগামীকাল তাদের নিয়েই রক্তে রঞ্জিত আগামী লিখা হয়।

কিভাবে? মজুরের হাতের কর্কশ তালুই তৈরি করে সমাজের বুনিয়াদ। কারখানার ধোঁয়ায় মাখা সেই মুখগুলোই আসলে সৃষ্টির কারিগর। যেখানে শ্রমিকের একদিনের মজুরি থেকেই জন্ম নেয় রাজাদের প্রাসাদ। শোষণ নয়, সমাধান চাই। জমির ফসল যেন যায় সেই কৃষকের ঘরে। মেশিনের যুগেও যেন মানুষ থাকে মেশিনের ঊর্ধ্বে। অসভ্য মালিকেরা শুধু মুনাফার হিসাব করে, বঞ্চিতরা গণনা করে রক্তাক্ত প্রতিদিনের হিসাব!কারখানার সাইরেন যত ডাকবে, প্রলেতারিয়েতের মুষ্টি তত শক্ত হবে! ধানক্ষেতে কৃষকের ঘামে ভেজা ভোর,পুঁজিপতির গদিতে সেই ঘামের ওপর বসে চোরেরা আরাম করে ! এই রকম ইতিহাসের পাতায় পাতায় প্রতিটি শোষণ জ্বলবে নীরবে , সেখানে গানের লিরিকে লিরিকে লিখা হবে বিপ্লবের আগুন।

"হিরো আলম: বাংলাদেশি প্রলেতারিয়েতের অপ্রতিরোধ্য কণ্ঠস্বর!

দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে থেকে দেখেছি প্রবাসেও মানুষগুলি কেমন করে জানি হিরো আলমেরই প্রতিচ্ছবি। তারা হয়তো অন্য ভাষায় কথা বলে ,ভাবে কিন্ত কেমন করে জানি একটা অদৃশ্য ভাষায় এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় হিরো আলমেরা। আমার চলার পথে বিভিন্ন সময়ে সময়ে হিরো আলম ভেসে আসতো, আর একটা ভেঙ্গে যাওয়া সমাজ কে জানিয়ে দিয়ে যেত “ দৃষ্টিভঙ্গি বদলান- আমরা সমাজ কে বদলে দিব “ । আলম ভাইয়ের কিছু কথা আমাকে ভাবাত; সমাজের এতো পেছনে পড়ে থাকা একজন মানুষের দুই ইঞ্চি জিহ্বা দিয়ে কিভাবে এই রকম কথা বের করে । একজন হিরো আলমই প্রমাণ করে দিয়েছেন- প্রলেতারিয়েত শুধু ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টায় না,ইতিহাসকে ছিন্ন-ভিন্ন করে নতুন করে লেখেও। তখন সেখানে নতুন নতুন নারেটিভ চিত্রকল্পে আঁকা হয় এভাবে- যে সমাজে মজুরের ঘামে ভেজা টাকা দিয়ে কেনা হয় মন্ত্রীর গাড়ি,সেই সমাজেই হিরো আলমের মত মানুষেরা হয়ে উঠেছেন নিচুতলার মানুষের জন্য রুক্ষ-রক্তাক্ত আয়না! ভাইয়ের সেই ঐতিহাসিক উক্তি:"গরীবের শিশু ক্ষুধার্ত থাকলে, ধনীর গাড়ির শো-রুমে আলো জ্বলে না!

হিরো আলম: সাধারণ শ্রমিক থেকে রাজনীতির ময়দানে !

এই সমস্ত সংগ্রামী মানুষের সংগ্রামে বাংলাদেশের কোটি কোটি হাতের গল্প। যারা ইট ভাঙে, গার্মেন্টস সেলাই করে, রিকশা চালায়,কিন্তু রাজনীতির খেলায় শুধুই ভোটব্যাঙ্ক! এই মাটির মানুষেরা কারখানার মেঝেতে ঘাম ঝরায় ,আর রাজনীতিবিদেরা পার্লামেন্টে সিট পোড়ায় ! শুধুমাত্র ভোটের দিনে এরা হিরো, বাকি ৫ বছর জিরো! এই মুহূর্তে আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের নতুন পরিবর্তনে এই মানুষগুলির ন্যায্য হিসাব ফিরিয়ে দেয়া উচিৎ। বাংলাদেশের প্রলেতারিয়েতের নতুন ম্যানিফেস্টো হওয়া উচিৎ , প্রতিটি বঞ্চিত মানুষের ভোটের মূল্য জানতে হবে। প্রতিটি কারখানার শ্রমিকই হবে রাজনীতির হর্তাকর্তা । রিকশাচালক থেকে গার্মেন্টস কর্মী – মাজখানের সবাইকে দেয়া হোক যথার্থ সন্মান। আলম ভাইয়ের রাজনৈতিক বিচারের সমাধান যদি করা হত বিলাসবহুল প্রাসাদ আর বস্তির কুঁড়েঘরের মধ্যে বৈষম্যের বিদ্রোহ যেত চুকে । বাংলাদেশের কোটি শ্রমজীবী মানুষের ক্ষোভে শান্তির মোমবাতি জ্বলত ।দেশে ৮৫% গার্মেন্টস কর্মী বেতন পায় ১২,০০০ টাকার নিচে, ৬৮% কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে জীবনযাপন করে, শহরের ৬৮% রিকশাচালক দিনে ৩০০ টাকার কম আয় করে। এই যে অসমতা- এর সমভাগ যতদিন না পর্যন্ত সঠিক বন্থন হবে, বৈষম্যের লালবাতি নিভবে না। এই বালাঞ্চ যে রাষ্ট্র করতে পারছে না, এটাই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বার্থতা।ভাইয়ের কিছু কিছু উক্তি আমাকে ভীষণ ভাবাত- যেমন " তোমাদের BMW গাড়ির এক টায়ার কেনার টাকায় আমার বস্তির ১০০ শিশুর এক মাসের খাবার হয়"। "আমি রাজনীতি শিখেছি রিকশার সিটে, তোমরা শিখেছো অক্সফোর্ডে""তোমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশে আমার মায়ের চোখের অপারেশন হয় না"।

হিরো আলমের রাজনীতি আমাদের দেখিয়েছে শ্রেণীসংগ্রামের নতুন মাত্রা । তাকে নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হচ্ছে, ওয়ার্ল্ড নিউজ কাভারেজ , শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সংগঠিত হচ্ছে ।তার বিপ্লবের বীজ আর সংগ্রামী জীবন এক অমূল্য শিক্ষা আমাদের দিচ্ছে এভ"ইতিহাস শুধু রাজপ্রাসাদে লেখা হয় না, লেখা হয় বস্তির দেয়ালে, কারখানার গেটে, আর রিকশার সিটে" ভাই বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থাকে সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।

হিরো আলম: পাপের শহরে !

আলম ভাইয়ের সাথে অনেক ঘটে যাওয়া ঘটনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল রুচির দুর্ভিক্ষ ।বেশ আলোড়ন তুলেছিল আমাদের শিল্পকলায়। আমি যখন দূরে গাড়ী চালিয়ে লং ড্রাইভে যেতাম, ভাইয়ের ভিডিও আসতো ফিডে। সেখানে ভাই দুঃখ করে বলেছিলেন- " কই আপনারা তো কেউ কোনদিন এসে আমাকে শেখালেন না। কিভাবে অভিনয় করতে হয়, মাথায় হাত বুলিয়ে কোনদিন তো বললেন না জীবন কে এভাবে দেখা যায়।ঠিক সেইদিন আমি পণ করেছিলাম- যদি কোনদিন সুযোগ পাই , ভাইকে নিয়ে একটা কনটেন্ট বানাব।সেই ভাবনা কে স্থায়িত্ত দিতে গিয়ে আমি দীর্ঘ আড়াই মাস ভাইকে নিয়ে রিহার্সাল করেছি।সেখানে আমরা জীবন নিয়ে গল্প করেছি।রিহার্সাল পিরিয়ডে ভাই তখন দুঃখ করে বলত- আপনাদের মত মানুষেরা আমার কাছে আসে না। আমি ভীষণ লজ্জিত হয়েছিলাম। তিনি আরও যোগ করেছিলেন - যেহেতু আসেনা, তাই আমার যা মনে হয় আমি তাই করি। এতে করে কে কি বলল , না বলল- আমার কিছু যায় আসেনা।আমি কতটুকু পেরেছি জানিনা । তবে দেখিয়েছি অভিনয় করতে হলে যে কোনও কাউকে নিয়েই একটা সত্যিকারের গল্প দাঁড় করিয়ে ফেলা যায়।তার সাথে কাজ করতে গিয়েই আমার তার প্রতি স্রদ্ধাবোধ আরও দীর্ঘ হয়েছে।যখন উনি পারছিল না কিন্ত বারবার বগুড়ার ভাষায় বলছে - " হবে না কেন দরকার হলে একশবার দেম"।তাকে ঘষামাজা করে শেষ পর্যন্ত দাঁড় করালাম পাপের শহর।। যে শহরে একজন বঞ্চিত মানুষ তার শুভাকাঙ্ক্ষী কে জানিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন তার না পাওয়া যন্ত্রণার গল্প।

পাপের শহর দেখতে ভিসিট করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। লিঙ্ক এখানে দেয়া থাকলো।

https://www.facebook.com/listolet.inc

https://www.youtube.com/watch?v=WGTgvkCHk10&list=PLyyU-9bZYzt4PxIyp6I0B8T6i8hCDyEFY

অবশেষে !

সক্রেটিশ, এরিস্টটল, প্লেটো , মার্কস, লেনিন, নজরুলদের ভাবনার দুনিয়ার কাছ থেকে আমাদের সমাজ এখনও অনেক দূরে। একটা সাম্যের সমাধান আমরা আজও করতে পারি নাই। এর জন্যই হয়তো যুগে যুগে হিরো আলম এবং তার গোত্রীয় প্রলেতারিয়েতরা পরাজিত হয়ে থাকবে বালুকণার মত শিক্ষিতদের মাঝে। তাদের অপ্রতিরোধ্য কণ্ঠস্বরের সংগ্রামে শ্রেণী বৈষম্য চলতে থাকবে যুগের পর যুগ ।এই যাত্রা যদি দীর্ঘ হয় অদূর ভবিষ্যতেও সমস্ত শিল্পবিপ্লব বরাবরি হবে অর্থহীন।

এই রকম গল্প বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের।এই মানুষগুলির গল্প আমরা জানতে চাই। তা যে কোনও ভাবনার জায়গা থেকেই হতে পারে।রাষ্ট্রের পাশে কে আছে আর বিপরীতে কে আছে সেই ভাবনার বিষয় গুলি নিয়ে লিখুন আমাদের সাইটের সিম্ফসিয়াম গাল্লারি-তে। আমরা চাই হাজার হাজার বাংলাদেশির জীবনের গল্পগুলো উঠে আসুক—ভাবনা, অভিজ্ঞতা আর জীবনের বাস্তবতা থেকে। রাষ্ট্র, সমাজ, সম্পর্ক বা একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব, আনন্দ, কষ্ট, দুঃখ আর শান্তির নানা রূপ। আমরা খুঁজছি এমন সত্যিকারের গল্প, যেখানে জীবনের গভীর অনুভব লুকিয়ে আছে।যে গল্প পাঠকদের অনুপ্রাণিত করতে পারে, হাসাতে পারে, ভাবাতে পারে বা জীবনের স্বাদ নতুন করে চিনতে শেখাতে পারে।আপনার অভিজ্ঞতা হয়তো কারও জন্য হয়ে উঠবে নতুন এক আলো। মানুষ পার্থক্য করে নিবে জীবনের স্বাদ।

আপনার গল্প লিখতে ভিসিট করুন https://www.listolet.com/en/listing এছাড়াও আপনার যে কোনও প্রয়োজন সম্পূর্ণ ফ্রিতে খুঁজুন এবং পোস্ট করুন। লিসটুলেট গ্লোবাল বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি সাম্যের এবং সামাজিক মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি লিসটুলেট সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি সুখী জীবন বাবস্থা গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশী মানুষের জীবনসবার জন্য শুভকামনা। হিরো আলম ভাইকে ধন্যবাদ আমাদের কাতারে সামিল হবার জন্য। আপনার শ্রম এবং মেধার ক্ষয়ে আপনাকে অভিনন্দন। ভালো থাকবেন।এই ইতিহাসের অসভ্য গাথায় আপনি এক রক্তাক্ত অদম্য ইঞ্জিন ।আপনি অবশ্যই প্রলেতারিয়েত সমাজ কাঠামোর এক কঠিন দেয়ালচিত্র !










এই লেখাকে রেটিং দিন

মন্তব্য

এখনও মন্তব্য নেই