আগমনী বার্তা
শহরে নগরায়ন হচ্ছে। গাছতলা কেটে পাঁচতলা। উঁচু ছাদে কড়াই এ কসাই এর মত জিভে দাঁত চেপে গোস্তের ওপর হাজার উপকরনের গন্ধ নেয় নতুনেরা। ধোঁয়া উড়ে যায়। গ্রামে শহরায়ন হচ্ছে। আইলের পর আইল প্রাচীরে মোড়ানো। সেখানে মানুষের অনুভূতি গুলি মায়ায় জড়ানো উৎসবের ইতিহাস মৃত। যেনো প্রকৃতির সাথে সহমরণ ঘটেছে সবা…
By sarwar
3 min read
শহরে নগরায়ন হচ্ছে। গাছতলা কেটে পাঁচতলা। উঁচু ছাদে কড়াই এ কসাই এর মত জিভে দাঁত চেপে গোস্তের ওপর হাজার উপকরনের গন্ধ নেয় নতুনেরা। ধোঁয়া উড়ে যায়। গ্রামে শহরায়ন হচ্ছে। আইলের পর আইল প্রাচীরে মোড়ানো। সেখানে মানুষের অনুভূতি গুলি মায়ায় জড়ানো উৎসবের ইতিহাস মৃত। যেনো প্রকৃতির সাথে সহমরণ ঘটেছে সবার। অভিনয়ের অভিশাপ চারপাশে। সব ধ্বংস করে দিচ্ছি চিৎকার করে, উল্লাস করে। জল্লাদের মত আমাদের জিভে গণ্ডারের থাবার শব্দ। ধুম করে ফেলে দিচ্ছি সব। কোন কিছুই খেয়াল করছি না। কি হচ্ছে? আমাদের হারিয়ে যাওয়ার দিন,হাসিখুশির দিন,প্রাণের আনন্দ, গোল্লাছুট,বন্ধুত্ব,একজনের প্রতি আর এক জনের সন্মান প্রদর্শন,প্রেম আর মৃত্যুতে ভেতর থেকে চোখের জল- এসব কোথায়? আজকাল সবাই যেন মরা মাছের মাংসে খুদা মেটায়। অথছ সবাই ভুলে গাছে শুটকি তে গন্ধ হলেও মাছের থেকে তার দামশত শত বছর, কত কত বছর? শুধুই যাওয়া আসা। আশা ভাসা ভাসা। সব ভাষাই তো আর পূর্ণতা পায় না। কিছু অমীমাংসিত, আবার কিছু বাকিই থাকে। সৃষ্টির মধ্যেও সৃষ্টি থাকে আবার ভাঙ্গা গড়ার মধ্যেও থাকে। জীবন এ রকমই ? না পাওয়ার যন্ত্রণা শত কত বছরেই পড়ে থাক। ভালোবাসার যৌথ খামারে যৌবনের গানে শুরু হোক আগমনী বার্তা। যেখানে সুরের ছোঁয়া জুড়ে থাকবে সূর্যের আলোর মত। প্রখর? সব জ্বালা জ্বলে পুড়ে ছারকারই হয়ে যাক। ওসব পুরুনো তে চোখ ফেলে আর কি হবে। ওগুলো তো মৃত্যুর মত।
কত স্মৃতি আমাদের একসাথে? হাসি, কান্না, রাগ, ক্ষোভ , মান-অভিমান , গান। কত যাত্রা পার করেছি আমরা দুজন মিলে। অস্থির অসমাপ্তি ছিল অনেক কিছুতে। সেগুলু শেষ করার তাগিদ আমরা দেয়ালে লিখে রাখতাম। তারপর কেটে কেটে শেষ করতাম পরের অন্য কোন দিনে। কত আনন্দের উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে আছে পুরনো দিনগুলি। আমি সব সময় বলতাম ,একদিন এগুলো স্বপ্ন হয়ে যাবে দেখে নিও। সেটাই হোল শেষ পর্যন্ত। যেদিন সাদা কাফনে খাটিয়া তে আমি শুয়ে ছিলাম, নাকে তুলা দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ ছিল আমার । সমস্ত রক্ত শীতল। মৃত্যু মুখে মিটমিট হাসি নিয়ে তোমাকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম উজ্জ্বল সাক্ষীর দিনগুলি। তুমি কাঁদছিলে। যেন মৃত্যু তোমারি হয়েছে।তারও পর কিছুদিন কেটে গেল। তখন পর্যন্ত পুরনো দিনগুলিই সাক্ষী। আমার মৃত্যু আর তোমার বেঁচে থাকার ব্যবধান ১টি বছরেরও না। অথছ তোমার কপালে নতুন সিঁদুর। তুমি এখন হাসছ অন্যের ঠোঁটে। বেঁচে থাকলেই যত আদান প্রদান। মরে গেলেই সমাপ্তি। আমি অপেক্ষায় থাকলাম তোমার নতুন অস্থির অসমাপ্তির সমাপ্তির জন্যে।
তুমি পরিবর্তন চাও। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখো। বিলাসবহুল আকাশকুসুম বসবাস তোমার। অথছ সামান্য অন্ধকারে তুমি ভয় পাও। যে পরিবর্তন করছে পরিবর্তনের আশায়, তাকে তোমার চোখে পড়ে না। সেই পরিবর্তন কে তোমার দুর্ঘটনা মনে হয়। তুমি চাও তোমার মত করে। ভেতরে ভেতরে যে বিলাসী জীবনের সুখ সে শুধু নিজে নিজেই উপভোগ করে গেল আজীবন। তুমি তার আশপাশ ধার গেসেও দাঁড়াতে পারলে না। তার বহমান চলাফেরায় তোমার কার্পণ্য ধীরগতি। অলস আচরণ। অর্বাচীন প্রাণীর মত। উল্লাসের স্পর্শ তোমাকে ছুঁতে পারে না , তোমার একগুঁয়েমিতার কারণে। অথছ তুমিও ভেতরে ভেতরে পরিবর্তন চাও। সেতো হচ্ছেই ধীরে ধীরে। দ্যাখো না। দেখবা কি করে? তুমিত শুধু চোখ বন্ধ করে সভ্যতার মুখে চুনকালি দেখো । তা দিয়ে চিত্র বানাও আর ছবি আঁক। আর মরা মাছের মাংসে খুদা মেটাও।
টা বরাবরই বেশি।
Rate this piece
Comments
No comments yet




