Skip to main content
Open menu
Listolet

চল্লিশ বছর

শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করি চল্লিশ বছরের জীবনে আড়াই কেজি সমান দুই পা বহন করে নিয়ে বেড়িয়েছে আশি কেজি সমান শরীরের ওপরাংস। একদিন সহসা উদ্ধার হয় পায়ের তলার ওপরের হাড় ফেটে ফেটে যায়। হাড় ফাটার শব্দে হটাত রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। চারিদিকের অন্ধকারেও চোখের জল সেখানে স্পষ্ট।রক্তাক্তই বৈকি! অস্তিত্ব বিহীন মস্…

By LISTOLET

2 min read

শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করি চল্লিশ বছরের জীবনে আড়াই কেজি সমান দুই পা বহন করে নিয়ে বেড়িয়েছে আশি কেজি সমান শরীরের ওপরাংস। একদিন সহসা উদ্ধার হয় পায়ের তলার ওপরের হাড় ফেটে ফেটে যায়। হাড় ফাটার শব্দে হটাত রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। চারিদিকের অন্ধকারেও চোখের জল সেখানে স্পষ্ট।রক্তাক্তই বৈকি! অস্তিত্ব বিহীন মস্তিষ্কের অণু পরমাণু ভুলে যায় প্রয়াত যৌবন। চল্লিশ  বছর অর্ধেক পুরনাঙ্গ ? এখানে অর্ধেক কোমর, অর্ধেক হৃদয় এবং অর্ধেক নৈসর্গিক মৃত্যুর হাতছানি। শুধু স্মৃতিতে থাকে শৈশবপ্রেমিকার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে। দেখা যায় সেখানে শৈশব এখনও নব যৌবনের মত। ভ্যাবাচ্যাকা ভিখেরির মত হাত পেতে থাক, প্রত্যাশা করি সব অসুখী মানুষগুলি একটু শান্তিতে থাকুক। নব যৌবন চল্লিশ  বছরের ক্লান্ত মানুষের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। । আড়াই কেজি সমান দুই পা শান্ত হয়ে আসে , শরীরের অন্যান্য হাড়গুলি ফাটা আরম্ভ করে আস্তে আস্তে।রক্তাক্ত চোখের জল হটাত স্মরণ করিয়ে দেয়, তবুও জীবন আনন্দের!


চল্লিশ বছরের সাথে সভ্যতা এগিয়ে চলছে। অন্ধকারে গাঁড় অসভ্যতা আর আলোতে সেই অপবিত্র মুখখানি পবিত্রতার খোলসে ঢাকা হয়ে মিথ্যে আলোকিত ভান ধরা স্বভাবে আর অভাবে ক্লান্ত হয়ে তিলে তিলে ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ হয়ে শেষ হয়ে যাওয়া পুরু একটা জীবনের ধংসাবেশ ।তবুও তো সভ্যতা এগিয়ে চলছে। অভুক্ত মানুষের রক্ত ঘাম সব শোষণ করে, চুষে চুষে আধুনিক পেলেটে সতেজ সালাদে নিজেদের খুদা মেটানো আর দেয়ালে শোভা পায় সেই চাষিদের রক্তের ফোটায় আঁকা পেইন্টিং। হাঁ- সভ্যতা আসলেই এগিয়ে চলছে।রানির মৃত্যু হয় প্রস্থানে, রাজানেয় আসন। আসনের সামনে দর্শক চোখের জল ফেলে মাটিতে, হাত তালি দেয়। কৃষক সেই জলে ফসল ফলায়। সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর অসভ্যতাদের জায়গা করে দেয়। আসন বদলের খেলা চলতে থাকে এই দুনিয়াতে। চলুক - কি আর করার ! ইহা জীবনানন্দ।


তারও পড় বসন্তের উল্লাসে অবখেয়ালে কাল মেঘ দখল করে নেয় হটাত জীবন। ফেলে আসা কতকাল। আর আগামীকাল। হতাশার ঘুড়ির সুতুয় শুধু ছুটেই চলে। যেন আসন্ন কাল মেঘের ফাঁকে আস্তে আস্তে হারিয়ে ঘুড়ি। তারপর আর চেষ্টা করেও গত চল্লিশ বছর কে ফিরিয়ে আনা যায় না।


গ্লানিতে যোগ হয় কি পাওয়া হইল জীবনে। দাঁড়িপাল্লার তো সমান হইলো না। চল্লিশ বছর নিরানন্দে আবার শুরু করে, আগামীর চল্লিশ বছরের ক্ষত পদচিহ্নের পথে আসলে কি দাঁড় হবে জীবনে। অতি সামান্যই আনন্দ বেঁচে থাকায়। তবু অঝথাই চল্লিশ বছর বাঁচতে চায় দুইশ বছর। ইহা আসলেই জীবনানন্দ ?


Rate this piece

Comments

No comments yet