Skip to main content
Open menu
Listolet
Blog

একদিন কি ঢাকার দেয়ালগুলো আবার কথা বলবে?

সকালবেলা ঢাকার কোনো ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। চারপাশে মানুষের ছুটে চলা, গাড়ির হর্ন, রিকশার ঘণ্টা, দোকানের ব্যস্ততা- সব মিলিয়ে পরিচিত সেই ঢাকা। হঠাৎ চোখ আটকে গেল রাস্তার পাশের একটি দেয়ালে।দেয়ালটির আসল রং কোথাও দেখা যায় না। তার ওপর একটার পর একটা পোস্টার- “বাসা ভাড়া হবে, ফ্ল্যাট ভাড়া হবে, অ…

By LISTOLET

4 min read

সকালবেলা ঢাকার কোনো ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। চারপাশে মানুষের ছুটে চলা, গাড়ির হর্ন, রিকশার ঘণ্টা, দোকানের ব্যস্ততা- সব মিলিয়ে পরিচিত সেই ঢাকা। হঠাৎ চোখ আটকে গেল রাস্তার পাশের একটি দেয়ালে।দেয়ালটির আসল রং কোথাও দেখা যায় না। তার ওপর একটার পর একটা পোস্টার- “বাসা ভাড়া হবে, ফ্ল্যাট ভাড়া হবে, অফিস ভাড়া হবে, রুমমেট আবশ্যক, যোগাযোগ করুন।” একটি পোস্টারের ওপর আরেকটি। পুরোনোটার ওপর নতুনটি। কোথাও কাগজ ছিঁড়ে ঝুলছে, কোথাও আঠার দাগ, কোথাও উঠে গেছে দেয়ালের রং।আমরা প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখি। এতটাই দেখি যে, হয়তো আর চোখেই পড়ে না।কিন্তু কখনো কি একটু থেমে ভেবেছি- ঢাকার দেয়ালগুলো কি সত্যিই এমন হওয়ার কথা?

একজন বাড়ির মালিক তার বাসাটি ভাড়া দিতে চান। মানুষকে জানাতে চান যে বাসাটি খালি আছে। তাই একটি পোস্টার ছাপেন, দেয়ালে লাগান। তারপর আরেকজন, তারপর আরও একজন। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি দেয়াল পরিণত হয় বিজ্ঞাপনের স্তর। এটি কোনো একজন মানুষের সমস্যা নয়। এটি আমাদের শহুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র।কিন্তু প্রযুক্তির এই সময়ে আমাদের কি অন্য কোনো পথ নেই?

অবশ্যই আছে। সমাধানের আগে অন্য ভাবে একটু ভাবা যাক। ধরুন একদিনেই পরিবর্তন হল সবকিছু? যেমন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- দেয়ালগুলো পরিষ্কার হলে আমরা সেগুলো দিয়ে কী করব?সেগুলো কি আবার ফাঁকা পড়ে থাকবে?আমি মনে করি, না।সেই দেয়ালগুলোকে আমাদের শহরের ক্যানভাস বানানো উচিত।একবার কল্পনা করুন।ঢাকার একটি পুরোনো দেয়ালে বিশাল একটি রিকশা। তার পাশে পুরান ঢাকার কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা। অন্য একটি দেয়ালে নদী, নৌকা আর বাংলার প্রকৃতি। কোথাও লোকজ সংস্কৃতি, কোথাও একজন নারী উদ্যোক্তার গল্প, কোথাও একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবন। আবার কোনো দেয়ালে হয়তো শিশুরা এঁকে দিয়েছে তাদের স্বপ্নের ঢাকা।আর কোনো এক দেয়ালে লেখা- “এই শহর শুধু আমাদের বসবাসের জায়গা নয়।

এই শহর আমাদের গল্প।”তখন সেই দেয়াল আর বিজ্ঞাপনের দেয়াল থাকবে না।সেটি হয়ে উঠবে শহরের উন্মুক্ত আর্ট গ্যালারি।শহরের দেয়ালও কি শিল্পের ভাষায় কথা বলতে পারে?অবশ্যই পারে।ঢাকার গল্পের তো কোনো শেষ নেই। আছে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নদী, গ্রাম, কৃষক, তাঁতি, রিকশা, লোকসংগীত, উৎসব, খাবার, পোশাক, স্থাপত্য- আর আছে কোটি মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভালোবাসা।এই গল্পগুলো শুধু বইয়ের পাতায় কেন থাকবে?
গল্প তো শহরের দেয়ালেও বেঁচে থাকতে পারে।ঢাকার অসংখ্য তরুণ শিল্পী হয়তো তাদের কাজ প্রকাশের জায়গা খুঁজছেন। একটি পরিষ্কার দেয়াল তাদের জন্য হতে পারে একটি বিশাল ক্যানভাস। নগর কর্তৃপক্ষ, ভবন মালিক, শিল্পী এবং নাগরিকদের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট দেয়ালগুলোতে পরিকল্পিতভাবে শিল্পকর্ম তৈরি করা যেতে পারে।একটি দেয়াল একজন শিল্পীর। অন্যটি আরেকজনের।কোনো দেয়াল বলবে এলাকার ইতিহাসের গল্প। কোনো দেয়াল বলবে পরিবেশ রক্ষার কথা। কোনো দেয়াল হয়তো শুধু মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলবে।এভাবেই ধীরে ধীরে ঢাকা নিজেই হয়ে উঠতে পারে একটি খোলা আর্ট গ্যালারি।
এতে শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়বে না। বদলাতে পারে শহরের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও।যে দেয়ালে সুন্দর একটি শিল্পকর্ম আছে, সেটিকে নষ্ট করতে মানুষ হয়তো দ্বিতীয়বার ভাববে। কারণ মানুষ যখন অনুভব করবে- “এই দেয়ালটি আমার শহরের অংশ,” তখন সেটিকে রক্ষা করার দায়িত্ববোধও তৈরি হতে পারে।আর এখানেই একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনই একটি দেয়ালকে বাঁচাতে পারে।

একটি বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন অনলাইনে দেওয়া হলো। একটি পোস্টার দেয়ালে লাগানো হলো না। তারপর আরও একজন, আরও দশজন, আরও একশজন।হাজার হাজার বিজ্ঞাপন যদি ধীরে ধীরে দেয়াল থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে আসে, তাহলে একদিন হয়তো ঢাকার অনেক দেয়াল পোস্টারমুক্ত হতে পারে।হয়তো পরিবর্তনটা খুব ধীরে আসবে।কিন্তু শহরও তো একদিনে তৈরি হয়নি। পরিবর্তনও একদিনে আসে না।একদিন আমাদের প্রজন্ম থাকবে না। থাকবে এই শহর- এর রাস্তা, ভবন আর দেয়াল।প্রশ্ন হলো, আমরা সেই দেয়ালগুলোতে কী রেখে যেতে চাই? ছেঁড়া পোস্টার?আঠার দাগ?এলোমেলো বিজ্ঞাপন?নাকি- শিল্প।ইতিহাস।সংস্কৃতি।মানুষের গল্প।একটি সুন্দর ঢাকার স্বপ্ন।

এটাই হোক ।হয়তো পরিবর্তনটা শুরু হতে পারে খুব ছোট একটি সিদ্ধান্ত থেকে- “দেয়ালে পোস্টার নয়- অনলাইনে বিজ্ঞাপন।”Listolet সেই ডিজিটাল পরিবর্তনের একটি মাধ্যম হতে পারে। আর পরিষ্কার হওয়া দেয়ালগুলো আমরা শুধু খালি রাখব না। সেখানে জায়গা করে দেব শিল্পকে, সংস্কৃতিকে, ইতিহাসকে এবং সৃজনশীলতাকে।হয়তো একদিন ঢাকার কোনো রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা থেমে যাব।কোনো “বাসা ভাড়া হবে” পোস্টার দেখে নয়- বরং একটি অসাধারণ শিল্পকর্ম দেখে।তখন হয়তো আমরা বুঝব- একটি বিজ্ঞাপন দেয়াল থেকে সরানো শুধু একটি পোস্টার সরানো ছিল না।এটি ছিল একটি শহরকে নতুন করে দেখার শুরু।
আর একদিনও দেরি নয়। বাসা ভাড়ার তথ্য দেয়াল থেকে সরিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হোক ।Listolet-এর বাসা ভাড়ার ক্যাটাগরিতে একজন বাড়ির মালিক তার বাসার ছবি, অবস্থান, ভাড়া, রুমের সংখ্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। অন্যদিকে একজন ভাড়াটিয়া তার প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইনে বাসা খুঁজে দেখতে পারেন।

প্রথমে অনলাইনে তথ্য দেখা, পছন্দের কয়েকটি বাসা বাছাই করা, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি গিয়ে দেখা- এই পদ্ধতিতে একজন মানুষের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমতে পারে।অর্থাৎ, একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শুধু একটি পোস্টারের বিকল্প নয়।এটি সময় বাঁচাতে পারে, যাতায়াত কমাতে পারে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে পারে এবং বাসা খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে পারে।

তাই প্রশ্নটা আপনাদের কাছেই- আপনি কেমন ঢাকা দেখতে চান?বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন কি ধীরে ধীরে দেয়াল থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে?আর দেয়ালগুলো পরিষ্কার হলে সেখানে আপনি কী দেখতে চান- শিল্প, ঢাকার ইতিহাস, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, নাকি আপনার নিজের এলাকার গল্প? আপনার মতামত লিখুন Listolet-এর Symposium Gallery-তে।কারণ শহর শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়।শহর আমাদের সবার।আর শহরের দেয়ালও হতে পারে আমাদের গল্প বলার জায়গা।

Rate this piece

Comments

0

No comments yet

একদিন কি ঢাকার দেয়ালগুলো আবার কথা বলবে? | Listolet